রবীন্দ্রনাটকের গান অনির্বচনিয়তার আভাস

আজকের আমাদের আলোচনার বিষয় রবীন্দ্রনাটকের গান অনির্বচনিয়তার আভাস

রবীন্দ্রনাটকের গান অনির্বচনিয়তার আভাস

 

রবীন্দ্রনাটকের গান অনির্বচনিয়তার আভাস

 

রবীন্দ্রনাটকের গান অনির্বচনিয়তার আভাস

রক্তকরবী’- নাটকে বিশুর গান সম্বন্ধে শঙ্খ ঘোষ বলেছেন বিশুর গান শুনতে পাওয়া যায় বিশুর মনের একটা অব্যক্ত অংশ, যা সঙ্গে সঙ্গে অনির্বচনীয় বটে, যা প্রকাশ করতে গেলে গান ছাড়া অন্য ভাষা বাতুল হয়ে যায়।’ শুধু বিশুর গানে নয়, রবীন্দ্রনাথের উত্তর পর্যায়ের নাটকে আছে এরূপ বাক্যের সৃষ্টিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা।

‘ফাল্গুনী’ নাটকে বাউল বলেছিল, ‘আমার গান আমাকে ছাড়িয়ে যায় সে এগিয়ে চলে আমি পিছনে চলি।’ রবীন্দ্র-নাটকের-গান সেই অনির্বচনীয়তার দিকে নিয়ে যায়, বাক্যের সৃষ্টিকে পিছনে ফেলে ছাড়িয়ে যেতে হবে। তার নাটকে কখনো কখনো গানের রস অনির্বচনীয়তার আভাস দেয় । এদিক দিয়ে বাতিক্রমধর্মী নাটক ‘ডাকঘর’।

‘ডাকঘর’-এ কোন গান নেই, কিন্তু এতে অনির্বচনীয়তার আভাস গান সংবলিত নাটকের চেয়েও যেন বেশী। গান না থাকা সত্ত্বেও
‘ডাকঘর’ গদ্যনাট্য যেন আদ্যপান্ত গান। তাই রবীন্দ্রনাথ নিজেই একে ‘গদ্যলিরিক’ বলেছিলেন এবং ‘ডাকঘর’ এর গদ্যলিরিকে এনেছিলেন অন্তলীন সুর।

 

রবীন্দ্রনাটকের গান অনির্বচনিয়তার আভাস

 

তাই এই নাটকে আলাদা করে গান না থাকলেও আছে অনির্বচনীয়তা। ‘ডাকঘর’ রচনার বেশ কিছুদিন পরে তিনি লিখেছিলেন, ‘কখনো কখনো গদ্যরচনার সুরসহযোগ করবার ইচ্ছা হয়।’

‘গীতবিতান’- এর গ্রন্থ পরিচয় থেকে জানা যায় ‘শাপমোচন’-এর বিভিন্ন অভিনয় উপলক্ষে রাজার ও রানীর কিছু কিছু গদ্যসংলাপে সুর দেয়া হয়েছিল। যেমন চন্ডালিকা-গদ্য সংলাপে সুরযোজনা করে নৃত্যনাট্যে রুপান্তরিত করেছিলেন।
‘চন্ডালিকা’ গদ্যনাট্য ।। ছি ছি মা, আবার তোকে বলছি, ভুলিস নে, মিথ্যে

নিন্দে রটাস নে নিজের পাপ সে পাপ । রাজার

বংশে কত দাসী জন্মায় ঘরে ঘরে, আমি

দাসি নই। ব্রাক্ষ্মনের ঘরে কত চন্ডাল জন্মায়

দেশে; আমি নই চন্ডাল ।

‘চন্ডালিকা’ নৃত্যনাট্য ।। ছি ছি মা, মিথ্যা নিন্দা রটাস্ নে নিজের

সে যে পাপ

 

রবীন্দ্রনাটকের গান অনির্বচনিয়তার আভাস

 

রাজার বংশে দাসী জন্মায় অসংখ্য

আমি সে দাসী নই।

দ্বিজের বংশে চন্ডাল কত আছে

আমি নই চন্ডালী।

আরও দেখুন :

Leave a Comment