কতিপয় গীতিনাট্যশালা ও তাদের কার্যাবলী

আজকের আমাদের আলোচনার বিষয় কতিপয় গীতিনাট্যশালা ও তাদের কার্যাবলী

কতিপয় গীতিনাট্যশালা ও তাদের কার্যাবলী

 

কতিপয় গীতিনাট্যশালা ও তাদের কার্যাবলী

 

কতিপয় গীতিনাট্যশালা ও তাদের কার্যাবলী

বাংলা নাটকের প্রথম পর্বকে অর্থাৎ ১৮৫২ থেকে ১৮৭২ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত, সখের নাট্যশালার যুগ বলা হয়েছে। পরবর্তীকালের সাধারণ রঙ্গলয়ের জন্ম এই সখের বা ব্যক্তিগত নাট্যশালাকে কেন্দ্র করে। সখের নাট্যশালা হিসেবে প্রখ্যাত যেমন-

১. বিদ্যোৎসাহিনী রঙ্গমঞ্চ

২. বেলগাছিয়া নাট্যশালা

৩. পাথুরিয়াঘাটা রঙ্গনাট্যশালা- শতীন্দ্রমোহন ঠাকুর

৪. শোভাবাজার প্রাইভেট থিয়েটারক্যাল সোসাইটি

৫.জোড়াসাঁকো নাট্যশালা সার প্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়, গুণেন্দ্রনাথ ও জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর

৬. বহুবাজার নাট্যশালা

৭. বাগবাজার সুখের নাট্যশালা

সখের নাট্যশালাকে কেন্দ্র করেই যেমন বাংলা নাটকের জন্ম, তেমনি আবার মধুসূদন- দীনবন্ধু-রামনারায়ণের মতো নাট্যকারবৃন্দও আত্মপ্রকাশের সুযোগ পেয়েছিলেন। এইসব নাট্যশালায় যাঁরা অভিনয় করতেন, তৎকালনি সমাজে সকলেই সুপরিচিত। উনিশ শতকের গীতিনাট্যের পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতারাও স্মরণীয়।

 

Google news
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

কিন্তু এদিক থেকে যে দুটি নাট্যশালা বা যাঁদের কথা মনে পড়ে সর্বাগ্রে, তাঁরা পাথুরিয়াঘাটা নাট্যশালার যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর এবং জোড়াসাঁকো নাট্যশালার জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে ঠাকুরপরিবারের স্মৃতি অবিস্মরণীয়।

তাছাড়া বাংলাদেশে বাঙ্গালীদের মধ্যে পাশ্চাত্য সঙ্গীতের অনুশীলন ও চর্চা শুরু হয় ঠাকুরপরিবারেই। জোড়াসাঁকো নাট্যশালাকে লক্ষ্য করে প্রাসঙ্গিকভাবে তাই বলা হয়েছে যে, বাংলা নাটকের ক্রমবিকাশে নাট্যশালার দান বড় কম নয়। শুধু জোড়াসাঁকো নাট্যশালাই নয়, পা: রিয়াঘাটা এবং বেলগাছিয়া নাট্যশালার ভূমিকাও স্মরণযোগ্য।

এই নাট্যশালায়-যতীন্ত্রমোহন গোস্বামী ও কৃষ্ণধন বন্দোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় হিন্দু-সঙ্গীতের ব্যাপক প্রচলন ঘটেছিল। অবশ্য সঙ্গীতে আগেই পরিবর্তন এসেছিলো সখের যাত্রাকে কেন্দ্র করে। ১২৮৯ সালের বঙ্গদর্শণে প্রসঙ্গক্রমে বাইজিদের সম্বন্ধে বলা হয়েছে, তখনকার বাবু-সমাজ এঁদের পছন্দ করতেন খুব বেশী এবং বাইজিদের কন্ঠে সস্তা টপ্পা নাকি বাংলার সঙ্গীতকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে চলেছিলো।

 

কতিপয় গীতিনাট্যশালা ও তাদের কার্যাবলী

 

বাবুদের এই রুচিটি যেমন সত্য তেমনি যতীন্দ্রমোহন-শৌরীন্দ্রমোহন জ্যোতিরিন্দ্রনাথের কথাও স্মরণযোগ্য। বলা বাহুল্য, ‘বাবু সঙ্গীত’র শেষ পর্যন্ত অবসান ঘটেছে। বাস্তবিকপক্ষে জোড়াসাঁকো নাট্যশালায় যে-সব অনুষ্ঠান হত, তার মধ্যে দিয়েই বাংলার সংস্কৃতি তথা সঙ্গীতের নবযুগের সূত্রপাত।

আরও দেখুন :

Leave a Comment