নাটকের অন্তর্নিহীত দাবী গান

আজকের আমাদের আলোচনার বিষয় নাটকের অন্তর্নিহীত দাবী গান

নাটকের অন্তর্নিহীত দাবী গান

 

নাটকের অন্তর্নিহীত দাবী গান

 

নাটকের অন্তর্নিহীত দাবী গান

রবীন্দ্রনাটকের গানগুলো যে কোন একটি বিশেষ নাটকেই ব্যবহৃত হয়েছে তা নয়, কারণ নাটকের অন্তর্নিহিত দাবীতেই একই গান ব্যবহৃত হয়েছে বিভিন্ন নাটকে বিভিন্ন ভাবে। আবার অন্যকোন সময়ে বা কারণে রচিত গান পরবর্তীতে কোন নাটকে যুক্ত করেছেন সেই নাটকের প্রয়োজনে। যেমন-

শরতে আজ কোন অতিথি এল প্রাণের দ্বারে

– গানটি রচিত হয় ১৩১৬ বঙ্গাব্দে। কিন্তু ‘শারদোৎসব’-এ ব্যবহৃত হয় ১৩২৯ সালের ভাদ্র মাসে।

“আমার আর হবে না দেরি’,
-এই গানটি রচিত হয় ১৩১৪ সালে। কিন্তু এটি ‘অরূপরতন’ নাটকে যুক্ত হয় ১৯২০ বঙ্গাব্দে। প্রথমে এটি ছিল গানের দলের গান, পরে হয় সুরঙ্গমার গান। ১৩২১ বঙ্গাব্দে লেখা ‘ভেঙেছ দুয়ার এসেছ জ্যোতির্ময়’- ‘শুরু’ নাটকে সংযোজিত হয় ১৩২৪ বঙ্গাব্দে। এক সময়ে এই গান আবার ‘নটীর পূজা’ নাটকের অভিনয় কালে ব্যবহৃত হয়েছিল।

‘খেলাঘর বাধতে লেগেছি’-

রচিত হয় ১৩২৯ বঙ্গাব্দে,

 

Google news
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

“আমার মন চেয়ে রয় মনে মনে’ লেখা হয় এক বছর পরে। এই দুটি গানই কয়েক বছর পর ১৩৩২ বঙ্গাব্দে ‘গৃহ প্রবেশ’- এ
অন্তর্ভুক্ত হয় হিমির প্রাণ হিসেবে।

‘আমরা লক্ষী ছাড়ার দল’- গানটি রচিত হয় ১৩০২ বঙ্গাব্দে, তার আটত্রিশ বছর পরে তা ব্যবহৃত হয় ‘বাঁশরি’ নাটকে। ১৯১১ সালে ‘অচলায়তন- এর জন্য লেখা গান ‘ঘরেতে ভ্রমর এল গুনগুনিয়ে। অনেক বছর পরে ‘তাশের দেশ’ নাটকে স্থান পায়। আবার ‘হারে রে রে রে রে, আমায় ছেড়ে দেরে দে রে’ গানটিও একসময় ‘তাসের দেশ’- এর অন্তর্ভূক্ত ছিল।

‘সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে লিখিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে এবং এটি ‘শাপমোচন’-এর অন্তর্ভূক্ত হয় ১৩৩৯ বঙ্গাব্দে। এগারো বছরের ব্যবধান রয়েছে ‘খরবায়ু বয় বেগে’-রচনাকাল ও ‘তাসের দেশ’-এ এই গানের ব্যবহার কালের মধ্যে। ঠিক সেই রকম ব্যবধান ‘ওরে ঝড় নেমে আয়’-গানের রচনাকাল এবং চিত্রাঙ্গদা নৃত্যনাট্যের সংযোজনার মধ্যে। অনেক সময় অন্য উপলক্ষে লেখা গানও পরে নাটকে জায়গা পেয়েছে। যেমন-

 

নাটকের অন্তর্নিহীত দাবী গান

 

‘সর্বগর্বতারে দহে তব ক্রোধদাহ’- এই গানটি রচনা করেছিলেন যতীন দাসের শহীদত্ব বরণের সংবাদ শুনে পরে এই গানটি আবার ‘তপতী’-র অঙ্গীভূত হয়ে যায়। এই সকল কারণেই অনুমান করা যায় যে, নাটকের অন্তর্নিহিত দাবীতেই রবি ঠাকুর গানের ব্যবহার করেছেন, স্থান-কালের বিবেচনায় নয়।

আরও দেখুন :

Leave a Comment