স্বদেশে বিশ্বরূপ লোকায়ন

আজকের আমাদের আলোচনার বিষয় স্বদেশে বিশ্বরূপ লোকায়ন

স্বদেশে বিশ্বরূপ লোকায়ন

 

স্বদেশে বিশ্বরূপ লোকায়ন

 

স্বদেশে বিশ্বরূপ লোকায়ন

দেশপ্রেম জাগ্রত করা স্বদেশের গানের প্রধান লক্ষ্য। এ দিক দিয়ে নজরুল অত্যন্ত সফল একজন গীতিকবি। অপরূপ কথার রূপবার্তায় কবি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে দেশকে মাতৃজ্ঞানে যেমন পূজা করেছেন, তেমনি আবার এই দেশের মধ্যেই কবি বিশ্বরূপ অবলোকন করতেন। এ দেশ কেবল আমাদের জন্মভূমি জননীই নন দেশে-বিদেশে নন্দিতা বিশ্বের প্রাণ।

ভারতমাতার নৈসর্গিক সৌন্দর্য এবং বিজয়গাথা গৌরব সমগ্র বিশ্বের কাছে একে বরণীয় করে তুলেছে। কত মণি ধ্বনির জন্ম এ মায়ের কোলে। ধনে-সম্পদে ঐশ্বর্যশালী বলেই বিদেশিদল ঘাটি বাঁধে এ মায়ের বুকে। কবির ভাষায়-

“আমার সোনার হিন্দুস্থান !

দেশ-দেশ-নন্দিতা তুমি বিশ্বের প্রাণ

ধরণীর জ্যেষ্ঠা কন্যা তুমি আদি মাতা,

তব পুত্র গাহিল বেদ-বেদান্ত সাম-গাথা,

তব কোলে বারে বারে এলো ভগবান ॥

এই গানটি বিশেষত দেশবন্দনার হলেও ভারতমাতাকে পৃথিবীর বড়কন্যা ও আদি মাতারূপে আখ্যায়িত করেছেন কবি। পৃথিবীর আদি সভ্যতা, সৌন্দর্যের প্রকাশ, শিল্প-সংস্কৃতি সকল ক্ষেত্রেই ইতিহাসে ভারতমাতা সর্বার্থে গণ্য। এই এক ভারতমাতাতেই বিশ্বরূপ অবলোকন সম্ভব। গিরিশৃঙ্গ, গঙ্গা, বিরান মরুভূমি এমনকি বরফ আচ্ছাদিত পাহাড়-ভূমি সকলের লীলাভূমি এ ভারতমাতা।

শুধু তাই নয় পার্সি- জৈন-বৌদ্ধ-হিন্দু-খ্রিষ্টান-শিখ-মুসলমান সকল ধর্মের মানুষের আশ্রয়স্থল এই দেশ। এই বিপুলতায় পৃথিবীর সকল দেশকেই জাতি করেছে আপন মহিমায়। এ ধারার আরো কিছু গান পাই নজরুলের স্বদেশপর্বের গানের ভাণ্ডারে যেখানে স্বদেশচেতনাকে সমুন্নত রাখতে, স্বদেশের প্রতি মানুষের মমত্ব বাড়াতে কবি বিশ্ব মায়ের দরবারে বাংলা মায়ের মর্যাদা তুলে ধরেছেন।

 

স্বদেশে বিশ্বরূপ লোকায়ন

 

ক. “কালোর শঙ্খে বাজিছে আজও তোমারই মহিমা, ভারতবর্ষ।

প্রণতি জানায়ে বিশ্বভূবন শিখিছে আজিও তব আদর্শ ॥

খ. “খোলো মা দুয়ার খোলো,

প্রভাতেই সন্ধ্যা হলো দুপুরেই

ডুবল দিবাকর গো।

সমরে শয়ান ওই, সূত তোর বিশ্বজয়ী

কাঁদনে উঠছে তুফান-ঝাড় গো

গ. “জয় ভারতী শ্বেত শতদল বাসিনী,

বিষ্ণু শরণ-চরণ আদি বাণী।

কণ্ঠ- লীনা বাজিছে বীণা,

বিশ্ব ঘুরে গাহে সে সুর

জয় জয় বীণাপাণি ॥

ঘ. নমঃ নমঃ নমঃ হিম-গিরি-সূতা

দেবতা মানস কন্যা।

স্বর্গ হইতে নামিয়া ধূলায় মর্ত্যে করিলে ধন্যা।”

 

স্বদেশে বিশ্বরূপ লোকায়ন

 

শিক্ষা-সভ্যতা-দীক্ষার সকল ক্ষেত্রেই নিখিল মানবের প্রথম শিক্ষক এ ভারতমাতা। দেবতার উপরে এ ভারতমাতার স্থান। মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে এ ভারত মায়ের সন্তানেরা একে স্বর্গজ্ঞান করে। বিশ্বে এর থেকে ঐশ্বর্যশালী আর কে আছে! এ ভারতমাতা যেন দেবমানস কন্যা, হিমগিরি সুতা। চারিদিকে শস্যবন্যা, শ্যাম অঞ্চলে আবৃত্ত এ বাংলাদেশের রূপ পৃথিবীর সকল দেশের থেকেও সেরা।

আরও দেখুন :

Leave a Comment